বিক্রয়কেজ্র 8৪1১ ৰি বেনেটোল! লেন, কলিকাতা-»

প্রথম প্রকাশ আগস্ট ১৯৬০

র্যাঁডিক্যাল বুক ক্লাব কাঁলকাতা ৭৩ গনউ বুক সেন্টার কাঁলিকাতা

প্রকাশক

ফটিক রায়

রায়-পশ্ডিত পাবালকেশনস ৪৪/১ বি বেনেটোলা লেন কাঁলকাতা ৭০০ ০০৯

মুদ্নক

নিরঞ্জন চৌধুরী

৮৩ 'বি বিবেকানন্দ রোড কাঁলকাতা ৭০০ ০০৬ প্রচ্ছদ-পরিকম্পনা

স্বপন চাকশ

বিত্রোক্গী ভ্ভাব্রত

এখান পাব

১৯৪৭ সাল !

শোনা ষাচ্ছে, এতাঁদন পরে শ্বেতাংগরা নাকি ভারতভূমি হ'তে চির-বিদায় নেবার সাঁদচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কাকে প্রণাম জানাই 2 নব উদয়ের পথে শুনি কার বাণী ?--প্রণাম লহ। লহ প্রণাম !--"-"*কিন্তু'"

প্রণাম জানাই তাদের সবার আগে, ধারা বুকের রন্তু ঢেলে, অত্যাচারধ শাসক-গোষ্ঠীর বন্দুকের গুলিতে, ফাঁসার দাঁড়তে গলা দিয়ে, মবস্ত- সংগ্রামের পাষাণবেদীমলে আত্মাহুতি 'দয়ে বার বার গেয়ে গেল জীবনের জয়গান

হাঁ! তাদেরই জানাই আমার প্রণাম £ আর নোয়াই আমার মাথা সেই স্বর্গাদাপি গরীয়সী জম্মভূমির মাটির "পরে

নতুন দিনের ইতিহাস রাঁচত হবে, তাই বৈদেশিক ইতিহাসকারণদের কলংক- কালীতে মসণকৃষ্ণ ব্যর্থ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে, সপ্তসূর্ষের অরুণ রাগে, স্বাধীনতার তোরণ-প্রান্তে উপনীত, কাদের কণ্ঠে শুনি অরধশতাষ্দী পূর্বের সত্যদ্ুষ্টা খাঁষ বাঁঙকমের উচ্চাঁরত সেই লোকোত্তর সংগীতের মূহ্ঘনা £

বন্দে মাতরম। সুজলাং সৃফলাং মলয়জশীতলাং শস্যশ্যামলাং মাতরম:। শুভ্রজ্যোৎগ্না পূলাঁকিত যাঁমনীমও ফুল্লকুসৃমিত দুমদলশোভিনীম,, সুহাসিনীং সুমধৃরভাষিণীম সুখদাং বরদাং মাতরম-।

সংগত ভূলবার নয় তাই একদা পদর্দীলত, অত্যাচারিত, লাঞ্চিত ভারতের হাজারো জনগণের একজনের অন্তরের অন্তস্থল ভেদ করে যে সংগাঁত জেগোছল, আজ তাই শুনি কণ্ঠে কণ্টে দিকে কে আকাশ-বাতাস প্লাবত করে উচ্ছ্বাসত হয়ে উঠছে £

সপ্তকোঁটিকণ্ঠ কল-কল ?ননাদকরালে

'দ্িসগ্তকোটিভুজৈধ-ত খর করবালে অবলা কেন মা এত বলে।

বহুবলধারিণধং নমামি তারিণীম: |

চোখের সামনে দেখাঁছ, প্রায় দই শত বংসর অতাঁতের কৃষ্ণ যবাঁনকা ধীরে ধীরে অপসারত হচ্ছেঃ তামসসী রজনীর মমস্থল ভেদ করে কার অশ্রত

ববলাপধাঁন শুন £ আর না! আর না! আর না হোসেন কুলি! তোমার 'আত্মা শাম্তলাভ করুক !

কার ?-_কার''এ কণ্ঠস্বর ?

জাফরগঞ্জ রাজপ্রাসাদের ভগ্ন মবত্তিকান্তপ হ'তে নিম সার্পল বাছাঁশখার মত কে অদেহণী তুমি, এমনি করে আজিও কার উদ্দেশে প্রেরণ করছো আত্ম- নিবেদন ! চিনোছি তোমায় ! বাংলা বহার উীঁড়ষ্যার তরুণ কিশোর নবাব, আলাীবদাঁর স্নেহের পৃতলী, নবাব মনসূরূল মুলক নিরাজউদ্দৌলা শাহকুলীথাঁ মীরজা মোহম্মদ হায়বৎ জঙ্গ বাহাদুর !

বাইরে অশান্ত বৃষ্টি-ঝরা রজনী £ মাঝে মাঝে বিদনযতালোকে আকাশের এক পরাস্ত হতে অন্য প্রান্ত পধস্ত যেন চোখ ঝলসে দিয়ে যাচ্ছে। ছবি একটার পর একটা ভেসে উঠছে £ ১৭৫৭ সাল, ২৩শে জুন পলাশীর প্রান্তরে ঘন 'নাবড় আম্রকাননের ছায়ায় বীর সৈনিক মীরমদন কামানের গোলায় ভগ্র-উর,, রন্তাপ্লুত, ভুলূশ্ঠিত !

বীর বাঙ্গালী সেনাপাঁত মোহনলাল তখনও আপ্রাণ যুদ্ধ করে চলেছে আর অদূরে কারা তোমরা পটে আঁকা ছবির মত রণসঙ্জায় সেজেও দাঁড়িয়ে আছো £ ম*রজাফর, ইয়ায়-লাঁতিফ, রায়দূললভ 1*'সোনক, ভুলেছো কি কেমন করে ষুম্ধ করতে হয় ?

ডুবে গেল ! বাংলার স্বাধশনতারাঁব লঙ্জায় রাঙা হয়ে অন্তাচলে গেল।

দ্রুত পটপাঁরবর্তন হচ্ছে £ হতভাগ্য নবাব ক্লুর স্বদেশদ্রোহীদের হীন চক্রান্তে মাত্র দুইশত তশ্বারোহগ নিয়েঃ হাতদর পিঠে চেপে যুম্ধভুমি হ'তে প্রচ্ছান করলেন। তস্তগমনোল্মখ শেষ স্বাধান নবাব ফিরে এলেন মনসংরগঞ্জ রাজপ্রাসাদে! মনে হয়ত ছিল তখনও ক্ষীণ আশা! অভ্তাচলমুখী 'নিম'ম নিয়াতির গাঁতরোধ করবেন নবাবের আদেশে রাজভাণ্ডারের ছার মুস্ত করে দেওয়া হলো £ দাও, দাও ! বাঁলয়ে দাও, তগ্াঁণত অথ জনে-জনে অকাতরে» কোন কার্পণ্য করো না। স্চিত অর্থ দাও বািলক্েঃ অর্থেরই কাঙাল এরা নাও -যার যত খুশী অর্থ নাও তোমাদেরই, শুধু সব-কিছুরই বাঁনময়েঃ সৈনিকের প্রাতজ্ঞা নিয়ে আসিহস্তে রণাংগনে আবার ঝাঁপিয়ে পড় শ্বেত বাঁণকের লালসার হোমানল হ'তে তোমাদের জন্মভূঁমিকে রক্ষা করো বন্ধু রক্ষা করো !

কিম্তু না,*-.শুনলে না, কেউ সে কথা শুনলে না। তাই গভীর রান্রে হতভাগ্য নবাব পথের ফাঁকরের বেশে আত গোপনে হশরাঝিলের 'িবচিন্র রাজ- প্রাসাদ মণিমাণক্যখাঁচত মোগল মসনদকে পচ্চাতে ফেলে রাজধানীর জনহান, পথে এসে দাঁড়ালেন

সবাই নবাবকে আজ ত্যাগ করেছে, ত্যাগ করেনি কেবল চিরসহচরণ বেগম লূুৎফউন্নিসা আর একজন পুরাতন প্রাতিহারী

£ ল্‌ুৎফা ?

£ বল।

£ ফিরে যাও তুমি প্রাসাদে কোথায় আমার সঙ্গে যাবে তুমি! নিশথের

এই জনহীন পথ আজ আর আমি বাংলা বহার উঁড়িষ্যার ভাগ্যবিধাতা নবাব [সিরাজউদ্দৌলা নই। আমি কপর্দ'কহান ভাগ্যাবড়ম্বিত পলাতক সামান্য একজন নাগরিক মাত্র

কি জবাব দিয়েছিলেন সোঁদন নবাবের হতভাঁগিনণ বেগম ? কেউ কি জানে ? কেউ কি শুনেছে 2 হাঁ? শ্মনোৌছিল সোঁদন নিশীথের স্তম্ধ অন্ধকার, আর কালো আকাশের পটে অগ্াঁণত তারার দল নির্বাক: দর্শা! আজও তোমরা তেমাঁন আছো ?

* * খোলা বাতায়ন-পথে তাকালাম বৃষ্ট থেমে গেছে কখন এক সময় মেঘজাল 'ছন্ন করে বর্ষণ-ক্লাস্ত আকাশের বুকে জেগেছে আবার 'বাক্ষপ্ত তারকার দল তেমন সেরাব্রের মত। মন চলেছে কোথায় 2 একখান নৌকা ধীরে মম্হরগাঁততে পাল তুলে মহানম্দার স্রোত আঁতক্রম করে, কাম্দীর জল- প্রবাহ উত্তীর্ণ হয়ে, রাজমহলের কাছে, শুক্কপ্রায় সংকীণ" স্রোতা নাজরপুর মোহনায় এসে আটকে গেল ছোট একাট পল্লী বখরা বরহাল। নৌকার মধ্যে কে অধোবদনে বসে? সিরাজ না ?-'হাঁ" পলাশী প্রান্তরের অস্তাঁমিত রাঁব। সিরাজ তখন ভাবছেন £ কোনমতে যাঁদ পাশ্চমমাঞ্চলে পালিয়ে গিয়ে ম"সয়ে লার কাছে যেতে পারি, তাহলে তার সৈন্যদের সাহাষ্য নিয়ে পাটনা চলে যাবো সেখানে রামনারারণের সৈন্যরা আছে আবার তাহলে একবার শেষবারের মত চেষ্টা করতে পারবো

নিয়তি বোধ হয় অলক্ষ্যে বসে হাসলেন নিষ্ঠুর হাঁস। সিরাজ জানতেন না, ঠিক এঁ সময় খুব নিকটেই তাঁর খোঁজে মীর দাউদ মশরকাশিম সৈন্যসামক্ত নিয়ে ও*ং পেতে বসে আছে মশরকাশিমের কাছে সংবাদ পেোছাতে দের হলো না। দানশার বিখ্যাত মসজিদের কয়েকজন লোকের মনে নৌকারোহী নবাবকে দেখে সন্দেহ হওয়ায়, তারাই গিয়ে সংবাদ দল গোপনে পাঁরতোষিকের লোভে

সিরাজ বন্দী হলেন সপরিবারে

শেষ আশার ক্ষীণ আলোক-শখাটুকুও নির্বাঁপত হলো নির্মম নিয়াতর ফুৎকারে ! ..

গী খ্ঁ নী

সোঁদনও ছিল এমনি 'নস্তষ্ধ নিঝুম রাত্রি !

অগাঁণত হারার কুচির মত নক্ষত্র-খাঁচত আকাশপটের তলায়, মূর্শদাবাদের নবাবহীন হীরাঝিল প্রাসাদ নিঃশব্দে রোদন করছিল। এমন সময় কারারক্ষিগণে পাঁরবোন্টত সামান্য দসয তঞ্করের মতই শৃংখলগত পূরুষাঁসংহকে এনে দাঁড় করানো হলো মীরজাফরের সম্মখে !

কে? মীরজাফর ! তুমি? তুমিই কিআজ আমার বিচারক 2? আমারই মসনদে বসে আজ তুমি আমারই বিচার করবে ? ধন, মান, প্রাতপাত্ঃ কিছুই - কিছুই আর আমার অভিপ্রেত নয়। শুধ্‌ আমার প্রাণ ভিক্ষা দাও শুধু; আমার বেচে থাকতে দাও !

অশ্রুঝরা কণ্ঠের সে শেষ মিনাঁত মীরজাফর হয়ত সহ্য করতে পারলে না।

তাই চিৎকার করে উঠল £ রক্ষী, নিযে বাও ! একে স্থানাশুরে নিয়ে যাও! পারাছ না, দাশ্য আর আমি দেখতে পারাছ না !

নিঃশব্দে ক্লাইভের প্রবেশ

মশরজাফর ক্লাইভ, পরামর্শ-সভা বসল

সিরাজের বে*চে থাকা চলতে পারে না। বতাঁদন দিরাজ বেচে থাকবে ততাঁদন বিশ্বাস নেই সিরাজের শেষ চিচ্টুকু পর্যন্ত মৃছে ফেলতে হবে। মৃত্যু! একমাত্র মৃত্যুই ওর শেষ পাঁরণাম

স্বাক্ষারত হয়ে গেল মতত্যু-দণ্ডাদেশ

তআরপর 1".

জাফরগঞ্জ রাজপ্রাসার্দের একটি অন্ধতমসাচ্ছল্ন নিয়তল ভূত ক্ষুদ্র কক্ষ। একাকী বন্দী সিরাজ ভাগ্যাবড়ম্বিত তরুণ কিশোর নবাব !

অন্ধকারে চুপি চুপি চোরের মত উন্মত্ত তীক্ষ7র তরবাঁর হাতে কে এঁ কুৎীসত ভর়্ঙ্কর কারাকক্ষে প্রবেশ করছে 2 মহম্মদী বেগ: না? আলীবদীঁ সিরাজের অনূকম্পায় প্রাতপাঁলিত অন্নে পৃষ্ট দুরাত্মা মহম্মদী বেগ ! রুপালশ চক্রের মোহিনী যাদু!

কে, মহম্মদী বেগ 2 তুমি! তুমি ! তুমিই শেষে আমাকে হত্যা করতে এলে? কেন? এরা কি আজ আমাকে এই বহু বিস্তৃত জন্মভূমির কোন 1নভূত কুটীরে যৎসামান্য গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থাও করে দিতে পারলে না ?

কিন্তু আত্মীবন্রম, সেও বুঝ মৃহর্তের জন্য হে মহামান্য রাজাধিরাজ ! হে রম্তবজ্ঞের প্রথম হোতা ! তোমার কাতরোন্ত তো শোভা পায় না!

অস্তাচল-মহখাঁ শেষ আলোর রান্তম রশ্মি তাই উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে £ না, না! আম বাঁচতে পার না! তা কখনোই হ'তে পারে না! আর কোন অপরাধ না করে থাকি হোসেন কুলি, তোমাকে যে হত্যা করোছি একাদন, অন্তত তার প্রায়শ্চিত্তের জন্যও জীবনের অবদান হোক

উন্মত্ত শয়তানের খরসানের উপধূপাঁর আঘাতে সেই অন্ধকার ধীলমাঁলন কারাকক্ষতলে রন্তান্ত নবাবের ফুল্লকুসুমের মত দেহথান লুটিয়ে পড়ল £ আর না! আর না হোসেন কুলি! তোমার আত্মা শান্তিলাভ করূক !

ভাবাছ, ষুগান্তরে কালপ্রবাহমধ্যে সাঁত্যই সে মহাজীবনের অবসান ঘটেছে !

ক্লাইভ, মণরজাফর প্রভৃতির চক্রাম্ত, মহম্মদ বেগের তাক্ষম তরবাঁর সাঁত্যই নির্বাপিত করেছে সেই মহা জ্যোতিত্মান্‌ আগ্নস্কুলিংগকে ! নাঃ হয়ান। কাল মহাকাল তার সাক্ষী ! 'বিষুক্লের মুখে খাঁণ্ডত সতাদেহের মত মহম্মদ? বেগের অস্তাঘাতেও সেই শাম্বত জ্যোতিম়্ দেহাতীত আত্মা অণুপরমাণুতে [িভন্ত হয়ে, শত শত আনবাণ অগ্রিস্ফালংগের মতই ভারতের এক প্রান্ত হ'তে অন্য প্রান্ত পরযম্ত জালিয়ে তুলল বিপ্লবের আগুন !

িন্তু কি দেখাঁছলাম ?

হাঁ, রান্র প্রভাতের সঙ্গে সঙ্গে স্বদেশদ্রোহীর দল দানবীয় বিজয় উল্লাসে, লেই হতভাগ্য নবাবের ক্ষত-বিক্ষত রন্তান্ত শবদেহ হস্তিপ্ষ্ঠে চাপিয়ে নগর প্রদাক্ষিণে বের হয়েছে ! ম্ার্শদাবাদের রাজপথের ধৃঁল হতে এখনও সে রন্তধারা শুয়ে যায়নি

এদেশবাসী বুঝতে পারেনি সোঁদন, কি মহাপাপের বীঁজ ভারতের মাটিতে তারা রোপণ করলে'। বুঝতে পারলে তখন, যখন সেই বীজ হ'তে সহস্র শাখায়- প্রশাখায় অত্যাচারের এক মহীরৃহ উত্জীবত হয়ে উঠল কুখ্যাত ব্রিটিশ-শন্তির অভ্যুর্খানের সাথে সাথে! স্বার্থাম্ধ ক্ষমতালোভী মুষ্টিমেয় ভারতবাসী বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেদের জন্মভূমিকে [বদেশন বাঁণকের হাতে তুলে দিয়ে যে অত্যাচারের হোমানল জালাল, সেই আগ্রষজ্ঞে প্রথম শহাদ আত্মবালদান দিল মীরকাশিম ! হাঁ! মশীরকাশিম !

খণ্ড খণ্ড ভাসমান মেঘাস্তরালে একটু আগের মেঘমন্ত আকাশের তারকাগ-ল আবার অবলয্ত হয়ে গেছে।

বাতায়ন-পথে নিশীথের শ্রান্ত বাতাস কার অশ্রুত কান্নার ধ্যান ভাসিয়ে আনে ?

দরজায় কার করাঘাত শুনাছ নাঃ না, মনের ভুল। মনে পড়ছে 'দিল্লনর বিখাত জম্মা মসাঁজদে কে এক পাগল পাঁথক, মাথার চুল এলোমেলো, রঙ্গ, গায়ে একখানি দামী শতাঁছনন শাল, দিল্লীর বাদশাহর প্রতীক্ষায় দৃষ্টি প্রসারিত করে দাঁড়য়ে আছে।

সম্রাট আসছেন ! এই হট: যাও! হট্‌ যাও! ধাক্কা খেয়ে পাগল পড়ে গেল, শন্ত কঠিন পাথরে কপাল কেটে রন্ত ঝরছে

রন্তু! রন্ত! 1সরাজের রন্ত ! আজিও শকায়ান মীরকাশিম, রন্ত দিতে হবে! আরো রন্ত দিতে হবে! দেশদ্রোহতার পাপ আজিও স্খালন হয়নি !

মীরজাফরকে গাঁদচ্যুত করে চতুর ইংরাজ তোমায় বাঁসয়োছল মোগল মসনদে তারা আশা করেছিল, তাদের হাতের ক্লীড়নক হয়েই তুমি থাকবে

1কম্তু তারা জানত না, সিরাজের নূশংস হত্যাযজ্ঞের 'বিষান্ত ধূমেই তোমার জ্ঞানচক্ষু উন্মখীলত হয়োছল। এবং যে মুহূর্তে তারা বুঝলে, তাদের ক্রড়নক হয়ে মসনদের শোভাবর্ধন মাত্র করতে তুমি ইচ্ছুক নও, সুরু হলো রেষারেষি মন কষাকধিঃ শেষ পর্যন্ত যুদ্ধাবগ্রহ। ১৭৬৫ খৃঃ আবার স্বদেশবাসীর চক্রান্তে ি*বাসঘাতকতায় উদয়নালা দুর্গের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই মীরকাশিমের শোচনীয় অবসান ঘটল কৃষ্ণ ঘনাম্ধকারে প্রথম প্রদীপাঁশখাটি জ্বলে উঠবার সঙ্গে সঙ্গেই বি"বাসঘাতকতার বিষ ফুৎকারে নির্বাপিত হলো

গবাধীনতা-যজ্ঞের পাষাণ-বেদীমূলে প্রথম শহাঁদের রন্তে আঁকা হলো প্রথম রন্ত আলিম্পন। পরবর্তা পৌঁনে দ:ই শত বংসর ব্যাপী পরাধীনতার বুনিয়াদ আরো হলো।

তারপর আবার একাদন ১৭৭৫ খঃ ৫ই আগঞ্টের কালরাতি প্রভাত হয়ে এলো। ভোরের প্রথম আলোয় কে তুমি সদ্যস্নাত বন্ধ ত্রাঙ্গণঃ পাত্র হারনাম করতে করতে দধাঁচর মত প্রাণ দিতে, ইংরাজ রাজত্বের প্রথম ফাঁসীর আসাম+, ইংরাজের সম্ট প্রথম ফাঁসীমণ্ের দিকে এগিয়ে চলেছো 2 চিন! তোমায় চাঁন ! মহারাজ নম্দকুমার !

মুক্তিষজ্ঞের ছিতীয় শহীদ, তোমায় প্রণাম জানাই

* * ১৯৩৮ খুঃ বঙ্গীয় প্রাদেশিক কনফারেম্সের জলপাইগ্চাড় অধিবেশনে শরৎচন্দ্র বসু সভাপাঁত হয়োছিলেন।

সেই সভাতেই বাংলার বিপ্লবী নেতা নেতাজী সুভাষচন্দ্র এক দীর্ঘ বন্তৃতয দেন, ইংরাজকে ছয় মাসের নোটিশে ভারত ছাড়বার দাবা জানিয়ে

১৯৩৯ খঃ ন্রিপুরী কংগ্রেসের সভাপতি হলেন চিরপ্রিয় সুভাষ ত্রিবর্ণ- রাঁজত জাতীয় পতাকা, তারই তলে দাঁড়িয়ে কদ্বুনিনাদে সুভাষ বললেন £ ভারত ছাড়ো? কুইট ইীণ্ডিয়া।

[কন্তু দক্ষিণপন্থীদের বিরোধিতায় অনুমোঁদত হল না সে প্রস্তাব

ভাবাঁছলাম সেই কথাই ১৯৪৭ এর জুলাইয়ের এক ক্ষান্তবর্ষণ মেঘ-মেদুর প্রভাতে।

বন্ধূবর নন্দ্দলাল এসে ঘরে প্রবেশ করল £ বীরু, এক কাপ চা খাওয়াতে পারিস ভাই !

£ এত সকালে 2 ব্যাপার কি ?

£ কাল সারাটা রাত ঘুমাতে পাঁরানি, ভাবাছলাম বাংলা ছিধাবিভন্ত হলো ; এবারে কোথায় যাই, পাকিস্তানে না 'হন্দস্থানে ?

£ তা কি চ্ছির হলো?

রা ভেবে দেখলাম ভাই ! শেষটায় কি স্থির করেছি জানিস ?

ঃকি?

£ পাকিস্তানও যা হিদ্দ্‌স্থানও তাই ! মারামার কাটাকাঁট সর্বত্র বামেলা কোন “স্থানেই” কম নয়॥। তাই ভাবাছ একটা নৌকা দীঘ'কালের জন্য ভাড়া করে গঙ্গাবক্ষে ভেসে পাঁড়। কারণ গঙ্গার জলে কেউই পাকিস্তান বা শহন্দুচ্ছানের দাবী ?নয়ে ভাগ বাটোয়ারা করতে আসবে না। কিন্তু যাক সে কথা। কাল হঠাৎ কলেজ স্ট্রীটে কার সঙ্গে দেখা হলো জানিস ?

£ কার সঙ্গে ?

£ মাস্টারদার সঙ্গে

£ কোন: মাস্টারদা ?

£ আমাদের সূষ্টিধর সান্যাল লাটসাহেবের গাড়ীতে বোমা ফেলার জন্য যার ফাঁসীর হুকুম হয়োছিল, পরে সে আদেশ রদ হয়ে হয় যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর এবারের মহাষুদ্ধের কিছুদিন আগে মুক্ত পেয়ৌছিলেন ; তারপর আবার গত আগস্ট আন্দোলনে বন্দী হন। কিছাাঁদন হলো মাস্টারদা মৃত্তি পেয়ে ফিরে

৯9

এসেছেন। কিন্তু আমাকে চিনতে পারলেন না।

মাস্টারদা 1..চোখে কি আবার গতরান্রের জপ নেমে আসছে নাক ? হাওয়ার বেগে পিছনপানে ছ;টে চলোছ। কেবলই মনে পড়ছে ফাঁসীর আসামণ মহারাজ নম্দকুমারের কথা 1"""

অনেক দুরে ; অতাঁতের অস্পন্ট ছায়া লিপি !

১৭০৫ খ:ঃ মৃ্শিদাবাদের অন্তর্গত ভদ্রপ:রে রাক্গণ পদ্মনাভের কক্ষ আলো করে একাঁট শিশু জন্মাল-_নন্দকুমার

মূর্শিদ কুলিখাঁ, আলীবা প্রভৃতির অধীনে পদ্মনাভ একজন বেতনভুক তহাসিলদার মাত্র ছিলেন।

ছেলেটি ক্রমে বড় হয়। কিন্তু খেলার দলে সকলের *পরে কর্তৃত্ব করবার কি একটা অদমনীয় সহজাত প্রবাত্ত তার

সোঁদনকার অসহায় িশৃ আজ যুবক পদ্মনাভের চেষ্টাতেই ঘোড়াঘাট, ফতোঁসিং, সাতমাইকা এই 'তনটি পরগণার নায়েব।

তারপর একাঁদন আলাবদাঁর চক্রান্তে নবাব সরফরাজ খাঁ নিহত হলে আলাবদ বসলেন মসনদে

মসনদে বসবার সময় যারা ছিল তাঁর পাশে, কাউকেই আজ তান ভোলেন [ন। নদ্দকুমারও প্রঙ্কৃত হলেন। হিজলা মাহষাদলের নায়েব পেলেন।

তারপর বর্গী'র হাঙ্গামা বর্গ“ এলো দেশে! গপাঁসমা আমাদের ছোটবেলার সেই ঘ্‌মপাড়ানী গান গেয়ে আমাদের এক ছোট ভাইকে ঘুম পাড়াতেন কতাঁদন

শুনোছি £-- খোকা ঘ,মাল পাড়া জধ্ড়াল বর্গ এলো দেশে, ব্‌লব্ালতে ধান খেয়েছে খাজনা দেবো 'কিসে ! বাংলার প্রতি কুটীরে কুটীরে উঠেছে হাহাকার

নবাব আলীবদর্শ আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে, রাজ্যপাট ফেলে রেখে, দিনের পর দিন বগর্ণদমনে অসিহস্তে এীঁদক ওাঁদক ছুটোছ;1ট করে বেড়াচ্ছেন জলের মতই প্রচুর অঞ্থব্যয় হচ্ছে, রাজকোষ শ্‌না হয়ে যায় ?দনের পর দিন। টাকা তারো টাকা চাই ! আলীবদঁ প্রজাদের 'পরে নূতন করে এক খাজনা বসালেন, নূতন উপায়ে অর্থাগমের জন্য ভ"লীবদর্গর পরোয়ানা এলো নন্দকুমারের কাছে £ নবাবের খাজনা কড়ায় গণ্ডায় আদায় করতে হবে। একে বগণ'র হাঙ্গমা) যথেচ্ছ অত্যাচার, আজ এর ঘর প.ড়ছে, কাল ওর ধনদৌলত লূশ্ঠিত হচ্ছে, তার উপরে বোঝার "পরে শাকের আঁট-আলাবদার নতুন কর। কে দেবে খাজনা 2 লোকে খেতে পায় না, সদা শংকিত, নন্দকুমার শন্য- হাতে ফিরে এলেন।

৯৯

তন্ততাউসের 'পরে বসে তুমি নবাব খাজনা জারশ করেছো কিন্তু তোমার প্রজাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে এই দর্দিনের বাজারে পেটের ভাত যোগাড় করতে হচ্ছে, তাদের দ$খে দয়াল: ব্রাহ্মণের প্রাণ কেদে উঠল রিল্তহস্তে ব্রাহ্মণ ফিরে এলেন। কিন্তু নবাবের রোষবাহন হতে ম্ীন্ত পেলেন না, তাঁকে কার্ধচযুত করা হলো তান বন্দী হয়ে মৃশিপ্দাবাদে প্রোরত হলেন সোনার প্রাসাদে পশীড়তের আর্তনাদ পেশছায় না! নবাব হুকুম দিলেন £ যতাঁদন না খাজনার টাকা আদায় হবে, প্রত্যহ তাকে নবাব দরবারে আনিয়ে বেত্রাঘাত করা হবে। সংবাদ পেয়ে পিতা পম্মনাভ এসে আশি হাজার টাকা খেসারত দিয়ে পূত্রকে মুক্ত করলেন নবাবের রোষবাহ হতে সহসা একটা প্রচণ্ড শব্দ শোনা গেল। নন্দদুলাল চেয়ার ছেড়ে লাফ দিয়ে উঠল £ আবার বুঝি কোথায় বোমা ফাটল রে! এখুনি মিলিটারী প্রভূদের আগমন হবে, চলবে গোলাগলি ! হলোও তাই, একটু পরেই দুম দুম দুড়ুম"*'রাইফেলের গাল চলবার আওয়াজ কানে এল মিলিটারী পুলিস ফায়ার করছে ছুটে জানালার কাছে গেলাম বড় রাস্তার উপর 'দিয়ে ছ্‌টছে জনতা ! দুম দুম দুড়ূম'**আবার গুলির আওয়াজ ! পাসমার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল £ হতচ্ছাড়া আবাগনীর বেটারা যাবো যাবো করছে, তা গেলেও তো পারে চলে! দেখ্‌ সন্তু, তোদের রোডিওটা বেচে ফেল বাপু! কেবল রোজ রোজ কতকগুলো মিথ্যে কথা বলে। আর তোদের খবরের কাগজওয়ালাদেরও বাহার যাই বাপু! নতুন মন্ত্রী বললে না, তিন দিনের মধ্যে গোলমাল না থামাতে পারলে ছেড়ে দেবে কাজ ! পাঁসমার একটানা খেদোন্ত শুনে হাঁস পেল। বাইরে প্রচন্ড বেগে কড়া নাড়ার শখ্দ এল। একটু পরেই 'সিশড়তে জুতোর শব্দ; সেই সঙ্গে কবিতার দুটি চরপ কানে এল £ | কে কহ কাল-আগ্র জবালিয়াছে আজ লঙকাশুরে 2 হায়, নাথ! নিজ কর্মফলে, মজালে রাক্ষসকুল, মাঁজলা আপাঁন। চমকে উঠলাম মাস্টারদার গলা! সাঁত্য মাপ্টারদাই ঘরে এসে প্রবেশ করলেন। আবাত তখনও থামেনি £ 1ক কুক্ষণে দেখোছাল তুই রে অভাগি, কাল পণবটশ বনে কালক্‌টে ভরা ভুজঙ্গে ? কি কুক্ষণে তোরা দ:খে দুখন, পাবক-শিখারাপিণশ জানকীরে আমি আমিন হৈম গেহে!

* * আলাবদাঁর মত্যুর পর সিরাজ মসনদে বসেছেন সংবাদ এসেছে বাঁণক ইংরাজ তার 'বিনানূমাতিতেই কলকাতায় দুর্গ নির্মাণ করছে প্রজবালত আগ্মীশখার মতই সিরাজ সংবাদে জবলে উঠেছেন পরোয়ানা গেল, দূর্গ এই মৃহার্ভে ভেঙে ধাঁলসাৎ করে দাও। ইংরাজরা লিখে পাঠাল £ সে কি! এমন মিথ্যা কথা কে রটালে ; নূতন দূর্গ আমরা তৈরণ করাছ না, পুরাতন মেরামত কারয়ে 'নাচ্ছ মান্র! আর, দৌর নয়, নবাবের ফৌজ চলে এলো কলকাতায় য্‌শ্ধে হেরে ইংরাজরা কলকাতা ছেড়ে পাঁলয়ে বাঁচল।

প্রশ্ন করলাম £ কবে ফিরলেন মাঞ্টারদা 2 বসুন!

£ হ্যাঁরে, সাঁত্াই কি আবার ভারত স্বাধীন হতে চলল ! ইংরাজরা কি এতাঁদনে সাঁত্যই দেশ ছেড়ে যাবে ?

আগ্রিষগের ছেলে এই মাস্টারদা ! দীর্ঘকাল সরকারের জেলখানায় ঘানি টেনেছেন। বুকের হাড় প্রত্যেকটি গোনা যায় কথা কইতে গেলে হঁফি ধরছে মাথার চুলের এক-তৃতীয়াংশ প্রায় পেকে সাদা হয়ে গেছে। প্রাণরস নিংড়ে, নেওয়া হয়েছে

মাস্টারদা বলেন £ দীর্ঘ 'তাঁরশ বছর যা স্বপ্ন দেখোঁছ, এতাঁদনে তা সাত সফল হবে! '্রিটিশের কারা-প্রাচীরের অন্তরালে বসে দন গৃনোছ--একাঁট দুটি করে দিন গুনেছি ; লূর্যসারাথর রথচক্রের ধান শোনবার আশায় আশায় !'"'গঙ্গার পাড়ে যে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ, কবে আবার সেখানে আমাদের কামান বসবে! ইউনিয়ান জ্যাক টেনে ফেলে দিয়ে সেখানে কবে, আবার উড়বে ভারতের জাতায় পতাকা !

[সিরাজের অন:গ্রহে নন্দকুমার আবার চাকার পেলেন, হুগলীর ফৌজদারের পদ। দেওয়ান মানিকচাঁদ নম্দকুমারের উপর ভার দেওয়া হলো, ইংরাজদের প্রতি কড়া শাসন দ-ষ্টি রাখতে।

দূরদর্শী নম্দকুমার কলকাতা রক্ষার জন্য বজবজের দযর্গ মেরামত করে সেখানে রসদ, গোলাবারুদ সৈন্য রাখলেন। কলকাতার দাক্ষণ 'দকে গঙ্গা পলাতক ইংরাজরা আবার যাতে না এসে গোলমাল বাধাতে পারে, সেই জন্য গঙ্গার দুই তীরে “তালা” “আলিগড়' নামে দুটি দুর্গ নির্মাণ করালেন। এীদকে তথন পলাতক ইংরাজরা ফলতায় গিয়ে মাদ্রাজের বাঁণিজ্য-কৃঠী হতে সৈন্যদের আসবার অপেক্ষায় কাল গ.নছে।

[সিরাজ দেওয়ান মানিকচাঁদের উপর কলকাতা রক্ষার ভার দিয়ে নিশ্চিন্ত মাঁনিকচাঁদ গোপনে ইংরাজদের সঙ্গে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

সহসা অতাঁকতে এলো মাদ্রাজ হতে অনেক নূতন ইংরাজ সৈন্য বজবজের দুর্গ আৰ্রান্ত হয়েছে।

মানিকচীদদদের সহায়তায় বজবজের দুর্গ ইংরাজ সৈন্য দখল করে নিল। কলকাতাও তাদের অধিকারে এল ; কারণ মানিকচাঁদ তখন ম্র্শদাবাদে পলাতক,

৯৩

আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য নবাব দরবারে উপাস্থিত। কলকাতা দখল করে

ইংরাজদের লোলুপ দূষ্টি গিয়ে পড়ল হূগলীর উপরে, কিন্তু নম্দকুমারের কামানের মুখে তারা আবার কলকাতায় ফিরে আসতে বাধ্য হলেন

এইভাবে নানা যহ্ধাবগ্রহের মধ্য দিয়ে নবাবের সঙ্গে ইংরাজদের শতুতা দিন দন বেড়েই চলেছে। এমন সময় ইংরাজদের মত ফরাসীদেরও লোলুপ দৃষ্টি গ্র্ণপ্রস্‌ ভারতের উপরে এসে পড়েছে

ফরাসী ইংরাজের মধ্যে বাধল স্বার্থের সংঘাত। রণসাজে সাঁঞ্জত দৃ্পক্ষ মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াল। বাজল রণভেরণ, ছুটলো কামান, ধোঁয়ায় চারাঁদক আচ্ছন্ন হয়ে গেল মীমাংসা হোক, কে নেবে ভারত! কালনেোমির লংকা ভাগ !

মীরজাফর, জগংশেঠ, ইয়ারলাতফদের অভাব কোনাঁদনই হয় না। ফরাসী সেনানীদের মধ্যে “টেরানু* গোপনে ইংরাজদের সঙ্গে হাত মিলাল ঘরের শত্রু [ভীষণ টেরানূর সহায়তায় ফরাসীরা ইংরাজদের হাতে পরাজিত হলো

1িনরপেক্ষর মত দূরে দাঁড়িয়ে সসৈন্যে নম্দকুমার দুই পক্ষের যুদ্ধ দেখলেন

নম্দকুমারের শন্তুর অভাব ছিল না; গোপনে সিরাজের কাছে সংবাদ পেশছাল, বারো হাজার টাকা ঘুষ খেয়ে নম্দকুমার নাক ফরাসীরের সাহায্য করেন নি। সিরাজের রোবে নম্দকুমার পদচ্যুত হলেন কিছুকাল পরে পলাশীর প্রান্তরে বাংলা তথা ভারতের ভাগ্য নিয়ান্রত হয়ে গেল

সিরাজের হত্যার পর ইংরাজের ভীঁচ্ছম্টলোভাী স্বণণগর্দভ মীরজাফরকে ক্লাইভ্‌ মসনদে বসালেন কিন্তু চাঁরাদকে বিশৃঙ্খলা, ক্লাইভ আর উপায়াস্তর না দেখে আবার ডেকে আনলেন নম্দকুমারকেই, তহশশীলদারের পদে তাঁকে 'নিষুস্ত করে।

মাস্টারদার কণ্ঠস্বর আবার কানে এল তাহলে ব্রিটিশ ভারতের সবশেষ গভর্ণর জেনারেল গ্যাডমিরাল লর্ড লূই মাউণ্টব্যাটান।

আর সর্বপ্রথম এদেশে কে গভর্ণর জেলারেল হয়ে এসোছলেন ?

বিলাতের সুবিখ্যাত পার্লামেন্ট মহাসভা

ভারত হতে প্রভূত অর্থ শোষণ করে, কোটিপাঁত হয়ে এদেশের সর্বপ্রথম গ্াভর্ণর :জেলারেল ওয়ারেন হোস্টংস স্বদেশে ফিরে এসেছেন। কিস্তু তাঁর দেশবাসীরা তাঁকে তাঁর বাল্যবন্ধু ইম্পেকে ছি 'ছি করছে কেন ?

একদিন এদেশের প্রকাশ্য বিচারসভার় নম্দকুমারের আভযোগ্ে আঁভযত্ত হেস্টিংস যখন ফ্রাম্সিস, ক্লেভারিং মনসনের 'বচারে অপরাধী সাব্যস্ত হয়ে আদেশ পেলো কোম্পানীর বত টাকা হেস্টিংদ আত্মসাৎ করেছে, সব 'ফারয়ে দিতে হবে, হেস্টিংস যথার্থই দোষী, তখন জোর গলায় হেস্টিংস বলোছল £ আমি ভারতের কোম্পানণর সর্বশ্রেষ্ট কর্মচারী, সুতরাং বোর্ডের [বিচার মেনে নিতে আমি এতটুকুও বাধা নই আজ তাঁকে তাঁর দেশভুমে, তাঁরই স্বদেশবাসী

টেনে এনে পার্লামেপ্টের বিচারসভায় দোষী বলে দাঁড় করিয়েছেন পার্লামেপ্ট মহাসভায় লোক গিসঁগস্‌ করছে

চারাদকে ভীষণ চাণ্ল্য, একশত ষাটজন লড" সেই বিচারসভায় উপস্থিত।

একদিন নয়, দুশদন নয়, দীর্ঘ সাতাঁট বছর ধরে বিচার চললো

মুখ্ধথহয়ে স্বদেশবাসী শুনতে লাগল মনস্বী বাগ্মণী এড্মণ্ড বাকের ওজীস্বিনী বন্ততা--[1019680117)010 01 5/81191) 78501088. বিচারের রায় দেওয়া হলো, হেস্টিংদ নির্দোবঃ-_বাদও দেশের লোকেরা তাঁকে সমর্থন করে নাই।

সর্বস্বান্ত হয়ে পথের ফকির হলো হেস্টিংস

কিন্তু কেন? শুধু কি পরস্ব অপহরণই সোঁদন তাঁর বিরুদ্ধে ছিল আভিযোগ ? ভারতের সর্বপ্রথম গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস পথের ফকির হয়ে দ:ঃখদৈন্য দর্দ্শায় অসহ্য লাঞ্ছনার কশাঘাতে জর্জীরত হয়ে কবে মহাকালের স্রোতে ভেসে গেছে কিন্তু জাল মকদ্দমার আঁভযোগে সোঁদন যে তরাঙ্ষণকে ফাঁস৭র দাঁড়তে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়োছিল,সেই &ই আগস্ট ১৭৭৫ খম্টাব্দের প্রভাত আজিও ফিরে আসে শতাব্দীর একটি বৎসরের প্রতি প্রভাতের সঙ্গে সঙ্গে, স্মরণ কারয়ে দেয় রন্তরাঙা সেই মুহূর্তট ।-"'ভুলি নাই, ওরে ভুলি নাই !

হেস্টিংস, তুমি ভুল করোছিলে অর্থের লোভে ব্রাহ্মণের রন্তপাত করে।

১৭৭৫ থঃ ৬ই মে রান্র দশটার সময় অকস্মাৎ মহারাজ নন্দকুমারকে ইংরাজের কারাগারে বন্দী করা হলো। 'বিদ্যাদবেগে সহরের সব্ন্ধ সেই দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে

মহারাজের মত একজন নিষ্ঠাবান: ধার্মিক ব্রাঙ্গণ কি এমন দোষে দোষী হতে পারেন যার জন্য তাঁকে বন্দী হতে হলো! এমন কি জামিন পর্যণ্তও দেওয়া হবে না তাঁকে!

হেস্টিংসের পরম শত্রু মহারাজ নন্দকুমার। মীরজাফর যখন ' বাংলার মসনদে, নন্দকুমার তহশীলদার, হেস্টিংস তখন মাঁর্শদাবাদের রেসিডেণ্ট |

নন্দকুমারের হাতে খাজনা আদায়ের ভার, কাজেই অর্থগক্্; হোস্টংসের সর্বপ্রকার উপাঁর আয়ের পথ বম্ধ। আবার স্বয়ং ক্লাইভ নম্দকুমারের পক্ষে থাকায় হেস্টংস 'নার্বষ সর্পের মত কেবলই গর্জায়। অসন্তোষের হয় সত্রপাত।

তারপর মীরজাফরকে গদীচ্যুত করে মখরকাশিমকে আবার যখন ইংরাজরা মসনদে বসাল, নম্দকুমার ইংরাজদের পক্ষপাতদম্ট অন্যারকে মুখ বুজে সহ্য করতে পারলেন না।

তান বঝোঁছিলেন, হিন্দ: মুসলমান এদেশের অধিবাসী যখন, প্রকৃতপক্ষে তখন তারাই এদেশের প্রকৃত মালিক, গ্রকৃত শাসনকর্তা দেশের রাজা হওয়ার প্রকৃত আঁধকার কেবলমাত্র তাদেরই ইংরাজ.এসেছে সেই কোন্‌ সাত সমর তের নদীর পার থেকে বাণিজ্য করতে বেশ ত,বাঁণিজ্য করতে চায় বাঁণজা অরাক. কিন্ত দোশব শাসনবাপারে তারা কোন- অধিকারে হস্তক্ষেপ

করতে আসে ! শুধু অন্যায়ই নয়, আঁবচার। এর আশ প্রতিকার চাই ।"""

দেশের বড় বড় জমিদার, ক্ষমতা প্রাতিপাত্িশালাী লোকদের কাছে গোপনে গোপনে নম্দকুমারের আবেদন-ীলাপ যেতে লাগল £ সংঘবদ্ধ হও! বিদেশী বাঁণকের যথেচ্ছাচার কেন আমরা মাথা পেতে নেবো !

কলকাতার গ্রভর্ণর তথন ভানাসিটার্ট। দৈবক্রমে নম্দকুমারের একথানা চিঠি ভানাসিটার্টের হাতে গিয়ে পড়ল

সঙ্গে লঙ্গে মহারাজ নম্দকুমার, রায়দুর্লভ প্রভাতি কয়েকজন প্রাতপাতিশালী লোকের বাড়ীঘর সার্চ করে ভানাসিটার্ট অনেক কাগজপত্র নিয়ে গেল। সেই সব কাগজপত্রের অনুবাদের ভার পড়ল হোস্টংসের উপরে কিছুকাল প্রহরীবো্টিত থেকে নম্দকুমার সেবারে কোনমতে মাস্তি পান ! | কিন্তু দেশের ডাক যার দ*'কান ভরে বেজেছেঃ সে কি চুপ করে থাকতে পারে ?

মশরজাফরের নামের মোহরাংধীকিত করে এদেশের ইংরাজ কর্মচারীদের অকথ্য অত্যাচার বর্ণনা করে মহারাজ নম্দকুমার এবারে বলাতে দ-'খানা চিঠি লিখলেন £ একথানা ক্লাইভের কাছে, "দ্বিতীয় পন্রটি ডাইরেকং টার সভার সভ্যদের কাছে।

ইতিমধ্যে মীরকাশিম 'কিছুকালের জন্য মসনদে বসেছেন তখন চিঠি দু'থানা ভানসিটার্টের শ্যেনদূষ্টি এড়াল না।

এবারে আর নজরবন্দী না রেখে ভান'সিটার্ট নশ্দকুমারকে বন্দী করল।

কিছুকাল পরে আবার মণীন্ত পেলেন মহারাজ

দেশের মযাষ্টমেয় বি"্বাসঘাতকদের চক্রান্তে মীরকাশিম মসনদচ্যুত হলেন ; মীরজাফরকে ডেকে আবার মসনদে বসানো হলো

মসনদ নিয়ে যেন পূৃতুল খেলা চলেছে।

পূতুল খেলা চলতে থাকুক, আমরা এাঁগয়ে চাল £ শিপাহ:শলার মীরজাফর মসনদে বসেই ন্দকুমারকে সাদরে আহৰন করে বাংলা, বিহার ডীঁড়ষ্যার মান্তত্ব দেওয়ানীর পদ দিলেন।

সুদূর 'দিল্লশ থেকে বাদশা .এক সনন্দ পাঠালেন £ সাত হাজার সৈন্যের নায়কপদে আঁভীঁষস্ত করে নম্দকুমারকে “মহারাজা” উপাধি দেওয়া হলো

দেশের লোকেরা মহারাজের পদোন্নতিতে বিশেষ উৎফুল্ল হলেও, এদেশের ইংরাজ করমচারীদের বুকগুলো হিংসায় জবলে পুড়ে খাঁক হয়ে যেতে লাগল 'হংসার অগ্রন্যততপ্ত বিষপাতর হতে সক্ষম তন্তুর মত অসংখ্য ধূম্রশখা নির্গত হয়ে ক্রমে সেটা আকার নিচ্ছে, একটা শন্ত কঠন পাকানো রাঁশর মত। অন্ধকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে দুটি শ্বেত ধবল হস্ত ! দুটি হস্তের দশটি আঙ্গল তার রন্তমাভ নখরগূলি যেন 'হংসায় লোৌলহান হয়ে উঠছে। পাকানো রশাঁটিতে ক্রমাগত ফাঁসি পড়াচ্ছে।

সাত সম.দ্র তের নদীর পার হতে আসছে একটা বিষান্ত ঝড়ো হাওয়া

সোনার ভারতভুমি পাাঁড়য়ে ছারখার করে দেবে।

শ্যামল ভূমি রন্তে লাল হয়ে উঠবে উঠবেই বানা কেন? আজ আর

১৬

সে দরদণ দেশপ্রেমিক তরুণ কিশোর নবাব সিরাজ নেই !

কে আজ আর 'সংহনাদে বলবে £ ইউরোপণয়গণকে শাসন করবার জন্য আর কিছুরই দরকার নেই, কেবল একজোড়া চটিজ্‌তো কোথায় তুমি নবাব ! কোথায় তোমার সেই চাঁটজ্‌তো ! *

পাশের বাড়ীতে ভীষণ একটা গোলমাল শোনা যাচ্ছে; কোতুহল-প্রিয় হুজগে বাঙ্গালীর মন চণল হয়ে ওঠে !

কয়েকজন গোরা সাজে্ট পাঠান সৈনিক পাশের বাড়তর অন্দরে জোর করে ঢুকে বাড়ীর কর্তাকে বেদম প্রহার করছে। একটু আগে রাস্তায় যে বোমাটা ফেটেছে, তাদের ধারণা সেটা বাড়শর ভিতর থেকেই নিক্ষেপ করা হয়েছে। অকাট্য যু্ত 1...

মাস্টারদা ইতিমধ্যে কখন একসময় আমার শব্যাটার *পরে টান: টান: হয়ে শুয়ে নাক ডাকতে শুরু করেছেন, বম্ধ; নম্দদুলাল অন্তর্হত হয়েছে

হঠাৎ ঘুমত্ত অবস্থাতেই নাক ডাকানো বম্ধ করে মুদ্রিত চোখে মাস্টারদার প্রশ্ন শুনে চমকে উঠলাম £ নিরাহ ভদ্রসন্তানাটি এখনো নার্বকারভাবে পড়ে পড়ে বন্দকের গধতো কিল চড় লাথি হজম করছেন ?

কক কিপাপে লাঁখলা পীড়া দারুণ বাধ রাবণের ভালে ?

নাঃ, বেটারা দেখাঁছ ঘুমটাই আমার মাটি করে দিলে। একা না পারিস, সকলে মিলেমিশে ওগুলোকে বেশ করে ঘাকতক 'দিয়ে ঘাড়ধাকা দিয়ে বার করে দেনা! যাবেই খন বলেছে, দু"্দণ্ড আগেই না হরি তে হো রর সংঘবদ্ধ হয়ে একসাথে মিলে গলাধাক্কা দিতে হবে।

মহারাজ নন্দকুমারের . স্মৃতির পাশাপাশি যেন একটা গেরুয়া রংয়ের পতাকা পত্‌ করে উড়তে উড়তে হঠাৎ আগুন লেগে পড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে দেখতে গস

কশানদীর কালো জলধারা রন্তে লাল হয়ে উঠেছে 'কাদের মশালে আকাশের ভালে আগুন উঠেছে ফুটে ?,

ইংরাজ মহাপ্রভুদের সু 2) শাসনে দেবতার রোষবাহর মধ্যে এল ইংরাজী ১৭৭২ নাল আর বাংলা ১১৭৬ সন। ছিয়ারের মন্বন্তর

পলাশীর প্রহসন, সিরাজের হত্যা, অবল-প্ত মীরকাশিম ! দেশদ্রোহীর দল 1বষবাষ্প ছড়াচ্ছে! কোম্পানীর শন্তিদণ্ডের নীচে শত লাঞ্ছনা অত্যাচার জুলুমে দেশের লোকের প্রাণ কণ্ঠাগ্ত।

কোম্পানীর কোন স্বানার্দ্ট শাসনাবাধ বা নয়ম-কানুন নেই'; একমান্ত লক্ষ্য ষে কোন উপায়েই হোক ছলে বলে কৌশলে খাজনা আদায় করা

১১৭৪ সালে দেশে ভাল ফসল হয়ান ; সুতরাং ১১৭৫ সালেই দেশে চাল বেশ মহার্ঘয হয়ে উঠোছিল। দুর্দীনেও কোম্পানীর লোকদের খাজনা আদায় চলল পুরোদমে অনেকেই অর্ধাশনে, অনশনে দিনপাত করতে সমর করেছে

বিদ্রোহী ভারত (১ম)--২ ১৭

তখন। এলো ১১৭৫ সাঙ্গ, বর্ধাসমাগমে বাংলার আকাশ নব নীরদমালায় ঢেকে গেল। নেমে এলো অজন্্র ধারার বৃষ্টি। মনের পাতায় লাগল আশার রাঁঙন স্বপ্নের ছোঁওয়া। |

কিন্তু সে স্বপ্ল ক্ষাণকের বিদ্যুৎঝালিক হেনে মিলিয়ে গেল, আশ্বিন কার্তিক মাসে বিদ্দুমাত্রও বৃষ্টিপাত হলো না।

মাঠে মাঠে ধানের সবূজ চারাগুলো জলাভাবে শুকিয়ে কু'কড়ে গেল। অগ্রন্ত্বপ্ত রুক্ষ ধরিন্রণর বৃকখানা ফেটে ফেটে চৌচির হয়ে গেল, আর সেই ফাটল দিয়ে নিধ্ঘম আগ্মাশখার মত তগ্ত হাওয়া ছাঁড়য়ে পড়তে লাগল চারাদকে হাহাকার করে।

ধারন্রীমাতা বিদীর্ণ বক্ষে লক্ষ লক্ষ অশরণরী বাহ্‌ প্রসারত করে যেন দীর্ঘ*বাস ফেলতে লাগলেন'-দে জল! দে জল! দেশের এতবড় দুর্দিনে মহম্মদ রেজা খাঁ, অন্যান্য ম্বেতাংগ কর্মচারী দেশীয় একদল হান উীচ্ছিষ্ট- লোভী একত্রে মিলিত হয়ে সহস্র সহস্র ক্ষধাপীড়ত আবালব্ষ্ধবনিতার মুখের গ্রাস আগে হতেই ক্লয় করে নিজেদের ভাণ্ডার ভয়ে রেখে দিয়োছল। এখন সেই সব সণ্টিত শস্য বেশী মূল্যে বেচে দু'হাতে অর্থ উপায় করতে লাগল দেশের চারিদিকে গ্রামে গ্রামে নগরে নগরে অগাঁণত নরনারী ধালক বন্ধ যুবা শিশু একমুষ্টি অল্নের জন্য কেউ ঘাস পাতা চাঁবয়ে খেয়ে, কেউ স্ত্রী বোন পত্র কন্যা বেচে বাঁচবার ব্যর্থ প্রচেম্টার মধ্য 'দিয়ে তিল তিল করে মতযুর অন্ধকারে এগয়ে চলেছে।

জনহান পারত্যন্ত গ্রাম নগর ! রাস্তার দুধারে, কুটপরের দাওয়ায় মৃতদেহ পড়ে পচে ফুলে বাতাসে দ:গনম্ধ ছড়ায়! দেখতে দেখতে এককোটট বাঙ্গালী সেই দাভক্ষের অনলাশখায় পূড়ে ছাই হয়ে গেল।

ভাবছো, বাংলার লোকসংখ্যা তখন কত ছিল 2 তন কোটি।

সেই কৎকাল-স্তুপের মধ্য হতে জন্ম নিল গেরুয়া আগুনের লক্ষ লক্ষ শিখা শ্বেতাংগদের দেশে দীর্ঘ পনের বৎসরের অত্যাচারের 'িবরুষ্ধে রুখে দাঁড়াল যেন একখানা তাঁক্ষ2 বাঁকা তলোয়ার

মযন্তর বাণী বয়ে নিয়ে এল একদল ঘরছাড়া সর্বত্যাগী গেরুয়া বসনধারী তরুণ সল্যাসী।

মাত্র পনের বৎসর আগে ১৭৫৭ খ্‌ঃ যে মনসরগঞ্জ রাজপ্রাসাদের নবাবের উন্মান্ত ধনভাপ্ডারের বহ; বৎসরের স্তুপ্কৃত মাঁণ-মাঁণক্য ধনসম্ভার জনগণের মনে যে সাড়া সোঁদন জাগাতে পারেনি, আজ ১৭৭২ খ্‌ঃ বঙ্গভুমের পোড়া মাটির বুকে ইতস্তত বিক্ষপ্ত কঙ্কালস্তপ হতে সেই সাড়া আচমকা মেঘেছাওয়া আকাশের বজ্রবিদযিতের মতই গুরু গুরু রবে ডেকে উঠল। পরশাস্তর তলে 'পিন্ট ভারতে প্রথম সম্ঘব্থ গণ-আদ্দোলন--বিদেশী খীতহাসিকরা বলেছে 9800/858 €১০০০11)০--সন্ন্যাসী বিদ্রোহ আর বাংলার তদানীন্তন প্রথম জেনারেল হেস্টিংস বলেছে--ঞ 560 01 18%1555 ০6510111%

আশ্চর্য কিছুই নয়! এরাই ১৯৪৫ সনে বাংলার তথা ভারতের

৯৮

স্বাধীনতা সংগ্রামের সর্বশ্রেচ্চ সৌনক স:ভাষকে বলেছে ভারতীয় কুইসালং ! তা বলে বলুক! আমরা তজানি! আমরা ভুঁলান !

পসোঁদন সগ্ঘবদ্ধ সন্ন্যাসীদের রিন্ত গেরুয়া বসনের মধ্যে যে অগ্নির প্রচ্ছন্ন আভাস দেখা দিয়োছল, সমগ্র দেশ সে আভায় রন্তরাঙা হয়ে উঠেছিল। সে বিদ্রোহ নয়, বিপ্লবও নয় !

নিপীড়ত শৃঙ্খলিত ভারতমাতর শতসহম্ত্র অত্যাচার-জর্জারত বৃভুক্ষিত সন্তানের বৃকভাঙা আত্নাদ। মহক্তযজ্ঞের প্রথম আগ্রাশখা। শহ্খালত জননীকে মত করবার প্রথম মিলিত প্রচেণ্টা

পাশের বাড়ীর বৌটি কাঁদছে

তার স্বামীকে প্রাপ্তবয়স্ক দূটি হেলেকে মিলিটারী পাঠান পুলিস মারধর করে শেষে বোধ হয় থানায় নিয়ে চলে গেছে

মাস্টারদা ইীনমধ্যে কখন আবার ঘীময়ে পড়েছেন, নাক-ডাকা শুরু হয়েছে। বড় রাস্তাটা একেবারে খালি--জনশন্য খাঁ খাঁ করছে। দোকানপাট সব বম্ধ হয়ে গেছে। বোধ হয় এর মধ্যেই 'কারাঁফউ' জারী হয়েছে

কেবল মাঝে মাঝে এক-আধটা সৈন্যভার্ভ মিলিটারী ট্রাক সগর্গনে ছুটে চলেছে।

ব্রাটশের মারণ অস্ত্র।

রোডওতে সংবাদ জানানো হচ্ছে £ অল হীণ্ডয়া . রোডও খবর বলাঁছ, আজকের মোটামৃঁটি খবর, মধ্যবতঁ সরকারের কংগ্রেস সদস্যরা পদত্যাগ -পন্ত দাখিল করেছেন। ম.ুসালম লাগ এখনও কোন সিম্ধান্তে উপনীত হনাঁন ।*"

নার্বকার মাস্টারদার ঘৃমের কোন ব্যাঘাত হচ্ছে বলে মনে হয় না। পারশ্রান্ত সৌনিক নিদ্রাভিভূত।

একাঁদন এরাই দলে দলে সত্ববদ্ধ হয়ে এদেশের ব্রিটিশ শাস্তকে কাঁপিরে তুলোছল ; জেবলোছল এদেশের বৃকে বিপ্লবের আগুন, ভারতকে আবার ক্বাধীন করতে হবে এই প্রাতজ্ঞা নিয়ে

কত তরুণ কশোর ষুবা সে স্বাধীনতার ষজ্ঞবেদীমূলে দিয়ে গেল 'আত্মাহযীত।

প্রেরণা তাদের কে যুগিয়ে ছিল? কে2"*কারা 2

ফিরে অকাই। অতাঁত দিনের আলোয় সেখ ঝলসে যাচ্ছে। দেখাঁছ এক শৃবরাট গেরুয়া মিছিল

দলে দলে মবন্তকামশ সন্ন্যাসী ফাঁকির, ডাক দিয়ে বায় তারা জাগো! 'জাগো বঙ্গস্স্তান! এদেশ তোমাদের ! তোমাদের যারা বণ্চিত করেছে, তাদের ক্ষমা করো না। যারা তোমাদের ক্ষংধার অন্ন, মুখের গ্রাস হিনিয়ে নিয়ে সণয়ের ভাশ্ডার পূর্ণ করেছে, তাদের ক্ষমা করোনা সত্ববঙ্ধ হও ! অত্যাচারীর কণ্ঠ টিপে ধর !

কোন গভীর অরণ্যে বা কোন ভগ্ন কুটীরে বাকোন লগগ্তপ্রার নান্দিরে হয়ত

১০৯

ছিল তাদের আস্তানা

কোথায় তারা ? মুক্তিকামী সন্ন্যাসী কোথায় তোমরা ?

যেখানে অত্যাচার যেখানে আনয়ম সেখানেই তারা !

'ছয়্াতরের মন্বস্তরে পাঁড়ত, বৃভুক্ষ;, অত্যাচারিত ভীরু দেশবাসী সোঁদন, নূতন উষার আলোয় নূতন 'দিনের স্বপ্ন দেখাছিল কি 2."

সত্যই কি এতাঁদন পরে নহমৃশ্ডমালিনী ম্মশানবাসিনী ভৈরবী মায়ের সন্তানরা শ্বেতদ্বীপের অস:র ধবংসে উম্ময্ন্ত খরসান হাতে এগিয়ে এল!

কোম্পানীর কর্তারা বিচিলিত ন্রস্ত ভীত শাঙ্কত। গেল রাজ্য ! গেল মান ! চারিদিকে বাঁসয়েছে প্রচণ্ড কড়া পহরা। স্থানীয় আঁধবাসীদের "পরে কঠিন নির্দেশ জারি হয়েছে, সম্ধ্যাসী ফাঁকরদের কাউকে কোথাও দেখতে পেলেই তখনি, যেন রাজদ্বারে সংবাদ প্রেরিত হয়।

ওরা দসন্য ! ওরা তস্কর ! খুনে- ডাকাত !

কোম্পানী ওদের সমূলে ধবংস করে আবার নগরে নগরে, গ্রামে গ্রামে” কুটীরে কুটীরে শান্ত ফারয়ে আনতে চায় চির শান্তীপ্রয় ভারতবাসী। সংবাদ সোঁদন তাদের কাছে আর গোপন ছিল না ।"..

নগরে নগরে গ্রামে গ্রামে সম্তান-সোনকরা ছাঁড়য়ে পড়েছে

অপ্রাতহত ওদের গাঁতি। বন্যার মত প্রচণ্ড--ঝড়ের মত দুবার

ধরণনর গৃহজাত শস্য অর্থ ল:ঠ করে ওরা বুভুঁক্ষিত 'ক্লস্ট জনসাধারণের, মধ্যে দুহাতে 'বালয়ে দিচ্ছে ।"-.

কোম্পানীর মাল, রসদ; গোলাগুলি অতকিতে লূঠ করে নিয়ে কোথায় আত্মগোপন করছে, কেউ জানতে পারে না, কেউ ধরতে পারে না।

রংপুরের নিকটবর্তা কোন স্থানে ক্যাপ্টেন টমাস তার অধীনস্থ পরগণা, সেপাইদের সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার সন্ন্যাসী সন্তানদের সম্মহখযদ্ধ হয়ে গেল।

কোম্পানীর সেপাই ছত্রভঙ্গ হয়ে পালাল ক্যাঃ টমাস মত্যুর ক্রোড়ে ঢলে, পড়ল রক্তে মাটি লাল হয়ে গেল।

দমন-নীতি-বশারদ চ্বেতাঙ্গ প্রভূরা যেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল ছলে বলে কৌশলে যেমন করেই হোক সম্যামীদের দমন করতেই হবে। দ়প্রতিজ্ঞ তারা

একাঁদকে নতুন বলে বলীয়ান বাংলার নতুন শ্বেতাঙ্গ প্রভুর দল তাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়েছে উচচ্ছস্ট-লোভী অনেক [ি্বাসঘাতক এদেশের ধাঁনক: সম্প্রদায় বেতনভুক দেশীয় পরগণা সেপাই ; অন্যাদ্দকে মনা্টমেয় সহায়- সম্পদহশীন, মবীন্তকামী তরুণ সম্্যাসী সৈনিকের দল!

আবার আর একদল সন্যাসী সৈনিকদের সঙ্গে সম্মখষদ্ধে ক্যাপ্টেন এড-ওয়ার্ডস তার অধাীনচ্ছ সমগ্র সৈন্যবাহিনী ধৰংস হয়ে গেল।

শ্বেতাঙ্গ কর্তারা সংবাদ পেলো, ব্রহ্মপুত্র নদ আতিক্রম করতে উদ্যত হয়ে হঠাৎ, কোন অজ্ঞাত কারণবশতঃ কয়েক দল সন্তান সন্ন্যাস তাদের গাঁত পরিবর্তন করে রংপুর 'দনাজপূর পরগণার মধ্যে সবন্ধ ছাড়িয়ে পড়েছে।

আরো কয়েক দল সন্যাসী সন্তান প্ৰীর্ণয়ার মধ্যে প্রবেশ করে অত্যাচার

দ0

ধনাদের অর্থ শস্য লঠ করে নিচ্ছে।

সদলবলে শ্বেতাঙ্গ কর্মচারগ ক্যাপ্টেন বলুক তখন রাজমহলের 'নকটবতাঁ প্যানাটতে (55880 ) অবস্থান করছে।

পার্ণয়ার কালেকটার সন্্যাসী-দমনে ব্যর্থ হয়ে 'আর উপায়াস্তর না দেখে ক্যাঃ ব্লকের কাছে সাহাধ্য প্রার্থনা জানিয়ে এক প্র প্রেরণ করলে ক্যাপ্টেন স্টুয়ার্ট তার অধীনস্থ উনাবংশাঁত ব্যাটালীয়ান সৈন্য নিয়ে, দেশের সবর হন কুকুরের মত আজ এখানে, কাল সেখানে সন্্যাসী সৌনিকদের খোঁজে পাগলের মত ছুটোছুটি করে বেড়াচ্ছে। যেখানেই সে গিয়ে উপাস্থিত হয়, শোনে এই সবে কিছাদিন হলো সন্ন্যাসী সৈন্যের দল সে জায়গা ছেড়ে চলে গেছে।

ওয়ারেন হেস্টংস। আবার সেই ওয়ারেন হেস্টিংস ! তারই আদেশে এক ব্যাটালীয়ান সৈন্য ক্যাঃ স্টুপ্লার্টের সৈন্যদলের সাহা্যার্থে প্রোরত হলো আর একদল সৈন্যকে আদেশ দেওয়া হলো, তারা যেন দিনাজপুর স্টেশন থেকে টাইরুট (119০) প্াার্ণিয়ার উত্তর সীমান্ত দিয়ে মার্চ করে অগ্রসর হয়। পথ ধরে অগ্রসর হয়ে সৈন্যরা সন্যাসীদের অগ্রগমনে বাধা দেবে শেষোস্ত দলের "পরে আরো নিদেশি ছিল, পথে তাদের কোথাও সন্যাসীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ভালই, নচেৎ তারা সন্যাসীদের অনুসরণ করে কুচাঁবহার পর্যন্ত অগ্রসর হবে। সেখানে ক্যাঃ জোনসের সৈন্যদের সঙ্গে মিলিত হয়ে, তাদের সাহাষ্য করবে |

ক্যাঃ বকের নিকট সংবাদ এলো, দলে দলে সন্ব্যাসী সৈনিক কশা নদী আঁতক্রম করে প্যার্ণয়া ছেড়ে চলে যাচ্ছে ।.."মৃহার্ত মাত্র আর বিলম্ব না করে তক্ষুি ক্যাঃ ভ্রুক তার নবগঠিত লাইট ইনফেনই্র সৈন্যবাহিনী নিয়ে কশা ০0598 ) নর্দীর পাড়ে এসে উপাস্থিত হলো দেখলে, অদ্‌রে সম্যাসীরা দলে দলে নদী আতক্রম করছে

ইংরাজের কামান গর্জে উঠ-ল।

প্রত্যুত্তর জানাল সন্যাসীদের কামান বন্দুকের আগ্রগোলকে দাঁতের বদলে দাঁত, চোখের বদলে চোখ !

প্রথম গ্্বাধীনতা সংগ্রামের বীর সৈনিকদের বুকের রন্তে কশা নদীর কালো জল রন্ত-রাঙা হয়ে উঠল

ছলে বলে পশহশান্তর হাতে সন্ন্যাসী সৌনকেরা প্রাণ দিল এমনি করে বহু বৃগ্ধ হলো। শেষ পযন্ত একদিন কোম্পানীর কামানের মুখে প্রথম সঞ্ঘবদ্ধ গণ-আন্দোলন ব্যর্থ হয়ে গেল। ১৭৭৩ থ্‌ঃ বিলাতে সে সংবাদ পেশছেছিল।

ওয়ারেন হেস্টিংস। বার বার ঘরে ফিরে এঁ শয়তানের প্রাতচ্ছবি মনের "পাতায় ভেসে উঠ্‌ছে। পু

ভারতের ভাগ্যাকাশে লোকটা যেন একটা ধূমকেতুর মতই উদয় হয়োছল ! 'ছয়াত্তরের মন্বস্তরের কয়েক বংসর পরেই সে কলকাতার গভর্ণর হয়ে এলো কোম্পানীর অধশনে হেস্টিংস যখন সামান্য মাহিনায় সাধারণ একজন কর্মচারী?

তখন হতেই সে বিরূপ নম্দকুমারের প্রাতি।

এথন হাতে ক্ষমতা পেয়ে হেস্টিংস বদ্ধপাঁরকর হলো, মহারাজ নন্দকুমারকে ধ্বংস করতেই হবে, তা সে ষে উপায়েই হোক, ছলে বলে কৌশলে ১৭৭৬ খুঃ ৬ই মে'র কালরান্রিরও আগে, প্রকাশ্য বিচার-সভায় জ্রাম্সিস,, ক্রেভারং মনসন নন্দকুমারের অভিযোগে হেস্টিংঘকে একবাক্যে যখন দোষধ সাব্যস্ত করেছিল, সে অভিযোগগ্লোও সামান্য নয়! সেই আভিযোগগুলোই হেস্টিংসের চরিত্রের সাক্ষ্য দেবে চিরকাল ১৭৭৫ খ-ঃ ১১ই মাচ" মহারাজ নমন্দকুমার ইংরাজের সুবিচারের দরবারে একটি দরখাস্ত পেশ করেছিলেন প্রথমতঃ ছিল তাতে হেস্টিংসের লক্ষ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ অন্যান্য দুর্বযবহারের কথা তারপর মহারাজ লিখোছলেন, গভর্ণর হেস্টিংসের বিরদ্ধে একটি আধটি জাভযোগ নয়, অসংখ্য অভিযোগ “মহম্মদ রেজা, খাঁ নিতাব রায়ের নামে হেস্টিংসের অভিযোগ অনেক, তারা দু'জনে নাকি কোম্পানীর রাজদ্বের বহু টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং সেই মহর্তেই তাদের পদচ্যুত করে আমার নায়েব সুবাদারের পরদ্দে নিষ,ন্ত করতে চান। তখন হেস্টিংসের অনরোধেই আম রেজা খাঁর প্রদত্ত হিসাবপত্র পরপক্ষা করে বুঝতে পারি, রেজা খাঁ কোম্পানীর রাজস্বের প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে উপায়াস্তর না দেখে রেজা খাঁ তখন হোস্টিংসকে এগার লক্ষ টাকা আমাকে দুই লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে আগাগোড়া সমস্ত ব্যাপারটা চাপা, দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু আম রেজা খাঁর হান প্রস্তাবে সম্মত হতে পারিনি। এর পর কিযে হলো জানি না। কিছুদিন পরে আশ্চর্য উপায়ে রেজা খাঁ মূত্তি পেয়ে গেল। এতে করে বক প্রমাঁণত হয় নাষে, নিশ্চয়ই হেস্টিংসের মত একজন পরস্ব-অপহরণকারী অর্থপশাচ বেশ মোটা টাকা রেজা খাঁর নিকট হতে উৎকোচ গ্রহণ না করে রেজা খাঁকে মুক্তি দেয়ান £ িছুদন আগে সে-ই তার দচদ্কর্মের সাথী ছিল। যখন হছয়াততরের মন্বস্তরের সময় আগে হতেই দেশের বহু ধান কিনে রেজা খাঁ গোলাজাত করে রেখে, পরে দুভিক্ষের সময় সেই ধান চতুগর্দণ মূল্যে বেচে প্রভূত অর্থ পায়, তারও বেশী অংশটাই তাকে হেস্টিংস প্রভৃতি ইংরাজদের মুখ বম্ধ রাখবার জন্য দিতে হয়েছিল। মানি হেস্টিংস গভর্ণর হতভাগ্য দেশবাসীর "পরে অসীম তার ক্ষমতা ! সেই ক্ষমতারই কি সে অপপ্রয়োগ করোন, যখন একান্ত অন্যায় ভাবেই, কেবলমান্ত ক্ষমতার জোরে নাটোরের প্রাতঃম্মরণয়া, অশেষ গৃণবতী মহারাণী ভবানী কোন প্রকার তুটি না থাকা সত্বেও তাঁর বহরেবন্দ* পরগণার জমিদারী ছিনিয়ে নিয়ে তার প্রির বোনয়ান কান্ত পোদ্দারের ছেলে লোকনাথ পোদ্দার হাতে তুলে দলে কেন? তার কারণ লোকনাথ তার তা হেস্টিংসের চিরআজ্ঞাবহ। এবং পথ দিয়ে তার অনেক অর্থাগম হবে এই আশাতেই নাঃ ফি অন্যায় করোঁছলেন মার্শদাবাদের নাবালক নবাব স:জাউদ্দৌলার গ্রতধারিণ, যাতে করে সেই মহলাকে নবাবের অভিভাবিকার পদ হতে জোরপূর্কক অপসারণ করে

মীরজাফরের বেগম মাঁণবেগমকে নবাবের আভিভাবকার পদে হেস্টিংস বাঁসয়ে এলেন 2 সেখানেও সেই রজতক্লের খেলা আড়াই লক্ষ টাকা ৫৩৯২টি মোহর ৫৭০টি আধূির 'বানময়ে হেস্টিংস অনায়াসেই এই পাপান[ষ্ঠান করেছে মোহর আধুলিগুলো হেস্টিংসের হাতে পেশছে দেয় আমারই গোমস্তা চৈতন্যনাথ, হেস্টিংসের ভূত্য জগন্নাথ এবং কান্ত পোষ্দারের ছেলে লোকনাথ মুর্শিদাবাদ থেকেই হোস্টংসকে মাঁণবেগম একলক্ষ টাকা উৎকোচ দেন, বাকী দেড় লক্ষ টাকা হেস্টংসের আদেশমত কান্ত পোম্দারের গোমস্তা মন্রসিংয়ের মারফৎ পেশছে দেওয়া হয়োছিল। এর সাক্ষী আমি আমার পত্র গুরুদাস। স্বয়ং মণিবেগমও একথা আমায় জানয়েছিলেন। দিল্লীর বাদশা আমাকে একখানা মূল্যবান পাল্কী উপহার পাঠিয়োছলেন। কিন্তু পাল্কীট পাটনায় এসে পেশছাতেই, সিতাব রায় জোর করে সেটি আটক করেছেন শুনে, হেস্টিংঘকে এর প্রাতকারার্থে জানাই হোস্টিংস তখন সেই পাজ্কীট পাটনা থেকে আনিয়ে নিজেই দখল করলে কত আর বলব হোস্টংসের কৃকণীর্তর কথা হেস্টিংস বেশ ভাল ভাবেই জানে, তার কুকীর্তর এমন অনেক কথাই আমি জানি, তাই সে সর্বদা আমার ধ্বংসের জন্য সচেষ্ট ।+

নন্দকুমারের আনীত নিদারুণ অভিযোগে মনসন প্রভৃতির সৃবিচারে সৌঁদন অপদস্থ হেষ্টিংসের মনে যে প্রাতহিংসার অনল জ্বালাল, তারই নির্বাণ লাভ হলো ১৭৭৫ খস্টাব্দের ৫ই আগস্ট রাতি প্রভাতে

দুরাতআ্মার ছলের অভাব হয় না।

১৭৭৫ খৃঃ ৬ই গে রাঘ্রি দশ ঘটিকায় মহারাজ নম্দকুমার ইংরাজের কারাগারে বন্দী হলেন জাল দাললের আভবোগে।

দলিল জাল ! 'বলাতের আইনে তখন জাল করবার অপরাধে চরম দণ্ড ফাঁসণ দেওয়া হতো

এঁ হত্যাযজ্ঞের চক্রান্তে প্রধান চক্রী ছিল সোঁদন কারা 2? জান তাদের নাম ? মোহনপ্রসাদ, রাজারাজবল্পভ, গোঁবন্দাসংহ, কান্ত পোদ্দার, হেস্টিংস বোর্ডের জনৈক্য সভ্য মিঃ বারওয়েল চ্বয়ং শয়তান-চ্‌ড়ামাণ জালয়াং গভর্ণর হেস্টিংস। '

ধবাচতর সে কাহনী !

হে মততযুজয়ী মহারাজ ! তোমার আত্মা শাঁন্তলাভ করেছে কনা জান না! পরদেশী বাঁণকের কথা ছেড়েই দিই, কিন্তু সেই বিদেশীর সঙ্গে হাতে হাত 'মাঁলয়ে, সোঁদন তোমারই স্বদেশবাসী ভাইরা যারা তোমার গলায় জাঁড়য়োছল ফাঁসশর দাঁড়, তাদের কি তুমি ক্ষমা করেছো ? হে ব্রাঙ্গণ ! নরেোোষা তোমার রন্তপাত করে যে মহাপাপ সোঁদন আমরা করেছিলাম, তার প্রায়শিত্ত কি আজও আমাদের শেষ হয়ান 2 ব্রক্গহত্যার সে মহাপাপের স্খালন 'কি আজও হলোনা?

জান না কোন অদৃশ্য লোকের মতযাহীন দেশে আজ তুমি বসে আছো !

১৬০

চেয়ে দেখো মহারাজ, তোমার স্বপ্প আজ সাত্যই বাাঁঝ সফল হতে চলেছে তুমি সোঁদন খন একটি মাত্র হেস্টিংসকে তাড়াতে চেয়োছিলে, তোমার কথা সৌদন আমরা কেউ শুনিনি কিম্তু আজ আমরা এদেশ হতে সমস্ত হেস্টিংস গোষ্ঠীকেই তাড়াতে বদ্ধপরিকর আজ আমাদের ক্ষমা করো মহারাজ অদশ্য লোক হতে পাঠাও তোমার আশীবাদ .

প্রচেম্টা আমাদের সফল হোক !

যে জাল দলিলের আভযোগে মহারাজকে ফাঁসীর দাঁড়তে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সে আঁভযোগ ইতিপূর্বে আরো একবার হেস্টিংস মহারাজের বিরৃ্ধে এনেছিল 'কিম্তু সেবারে নিজেদের স্বার্থে আঘাত লাগবার ভয়ে হোস্টংসকে সে আভিযোগ তুলে নিতে হ'য়োছিল। দীর্ঘকাল পরে সেই পুরাতন আভবোগে মহারাজকে বন্দী করা হলো

মীরকাশিম তখন মসনদে সেই সময় বূলাকীদাস নামে একজন ধনী শৈঠের কাছে মহারাজ তার নিজস্ব কিছহ মূল্যবান হাীরা-জহরতের অলংকার বিক্লী করতে দিয়োছলেন। পরবতাঁকালে মশরকাশিমের সঙ্গে ইংরাজের যখন যচ্ধ বাধল এবং মশরকাশিম মসনদচ্যুত হলেন, সেই সময় মীরকাশিমের দলের লোক বলে বুলাকীদাসের কুষঠীও লণ্ঠন করা হয়। সেই লংপ্ঠনের সময় বূলাক৭- দাসের অন্যান্য সম্পাত্তর সঙ্গে মহারাজের গাচ্ছত হীরা-জহরতের অলংকারগৃলিও লুণ্ঠিত হয়।

অভাঁবিত দঘটনায় হৃতসর্বস্ব ধরভীর: সংপ্রকীতি বূলাকীদাস মহারাজের গচ্ছিত অলংকারগুলি বা তার 'বাঁনময়ে অর্থ না দিতে পেরে মহারাজকে সে সময় একখানা দলিল লিখে. দেয় যে, বুলাকীর দুই লক্ষ টাকা কোম্পানীর কাছে পাওনা আছে। সেই টাকা আদায় হলে মহারাজের গাঁচ্ছত অলংকারের নির্ধারিত মনল্য বাবদ ৫০ হাজার টাকা সে মহারাজকে শোধ করে দেবে কি্তু ঘটনাচক্রে বুলাকীদাসের জীবিত অবস্থায় কোম্পানীর সে টাকা আদায় হলো না। অবশেষে তাঁর মৃত্যুর পর মহারাজ অনেক কষ্টে কোম্পানীর কাছ হতে বুলাকীর প্রাপ্য দুই লক্ষ টাকা আদায় করে বুলাকীর বিধবা ম্ত্রীর হাতে টাকাটা তুলে দেন। বুলাকীর স্ত্রী এঁ টাকা পেয়ে তখন মহারাজের দেনা শোধ করে দিলেন আর মহারাজ বূলাকীর দেওয়া দাললখাঁন বকুলাকীর উত্তরাধকারীরদের হাতে প্রত্যর্পণ করলেন

এরপর অনেক দন চলে গেল বৃলাকার স্ত্রীর মত্যু হলো

সেই দলিলের কথাও আর কেউ ভাবোঁন।

মোহনপ্রসাদের নাম আগেই বলোছ। মোহনপ্রসাদের মত পরসত্রীকাতর, হান জঘন্য চরিত্রের লোক বড় একটা দেখা যেত না।

এই মোহনপ্রসাদ ছিল হেস্টিংসের একজন আত অন্তরঙ্গ বন্ধু পরামর্শ- দাতা। মোহনপ্রসাদ দাঁললের কথা সবই জানত ; কারণ সে ছিল বূলাকার জ্ঞাতিদের মোস্তার

প্রথম বারেও মোহনপ্রসাদের পরামর্শেই, অর্থের লোভে বূলাক'র

9

জ্ঞাতরা মহারাজের বিরুদ্ধে জাল দাঁললের মকম্দমা এনোছল, এবারেও হেস্টিংসের পরামর্শে মোহনপ্রসাদই মহারাজের বিরুদ্ধে জাল দাঁললের মকদ্দমা আনল সপ্রীম কোরে

মহারাজের 'বিচার হবে !

কী মাস্টারদার ঘ্‌ম ভেঙে গেছে বসে বসে হাই তুলছেন। £ কি, ঘ্‌ম হলো মাস্টারদা ?

£হ্যাঁ। বজ্ড ক্ষিদে পেয়েছে রেঃ কিছ খাওয়াতে পারিস: £

ভৃত্য এসে জানাল, বেলা হয়েছে, পিসিমা স্নান করতে বললেন

£ হ্যাঁরে, সদর দরজা ছাড়া তোর বাড়ী থেকে আর বের হবার অন্য কোন রাস্তা আছে ?

কেন বল তঃ

£ সদর রাস্তায় কারফিউ, না 2

2 হ্যাঁ।

£ তবে! শিয়ালদহ স্টেশনে একবার যেতেই হবে যে। ঢাকা জেল থেকে বিনয় মুক্ত পেয়েছে, সে আজ কলকাতায় এসে পেশছাবে কথা আছে বিনয়ের আবার টি. বি ফ্লেম়ার আপ করেছে আর হয্নত বেঁশাদদন বাঁচবে না। কি রে? বোকার মত চেয়ে আছিস্‌ কেন? আমাদের বিনয় বোসকে মনে নেই তোর? প্রথম সন্দ্রাসবাদের ছাঁড়কে আন্দামানে গ্রোছল, তারপর